গ্রামের নাম সাদুল্লাহপুর

গিয়েছিলাম সাভারের ছোট্ট একটা গ্রামে,যেটা গোলাপ বাগান নামে খ্যাত। প্রথমেই বলে নেই এটা আমার প্রথম সোলো ট্যুর। আমি সাধারণত আমার বন্ধুবান্ধবের সাথে ঘুড়ে বেড়িয়ে অভ্যস্ত কিন্তু কয়েকদিন আগে একটা ট্রাভেল ব্লগে একজন বিদেশীনীর একা একা বাংলাদেশ ভ্রমণের গল্প পড়ে খুব অনুপ্রেরণা পেলাম।  ভাবছিলাম যে কোথা থেকে শুরু করা যায়। শেষমেষ ভাবনা চিন্তা বাদ দিয়ে চোখে পরলো গোলাপ বাগানের বিস্তর বর্ণনা আর চলে গেলাম সাদুল্লাহপুর।

 

এই গ্রামে ঢাকা থেকে বাস, অটো, নৌকা অনেকভাবেই যাওয়া যায়। সড়কপথ দিয়ে ভেঙ্গে ভেঙ্গে যেতে হয় দেখে মিরপুর দিয়া বাড়ি থেকে সরাসরি ট্রলারে উ্ঠে গেলাম। শুক্রবার ছিল দেখে ট্রলারে খুব বেশি লোকজন ছিলনা। ট্রলার ছাড়তেই বুঝেছি একা হলেও নদীপথে আসার সিদ্ধান্তটা পারফেক্ট ছিল। ল্যান্ডস্কেপ ছবি তোলার জন্য এই পথের কোন বিকল্প নেই।

ঘন্টাখানেকের মাঝেই সাদুল্লাহপুরে পোছে গিয়ে গ্রামে ঢোকার মুখেই একটা দোকানে খাওয়াদাওয়া সেরে নিলাম। সেখান থেকে হাটতে হাটতে গেলাম গোলাপের বাগানে। নভেম্বরের এই সময়টা ফুলে বাগান ছেয়ে যায়। সারিবদ্ধভাবে সাজানো গোলাপের কলম, একটু ভেতরে ঢুকতেই সদ্য ফুটন্ত গোলাপগুলো মিষ্টি গন্ধ ছড়াচ্ছে। এখানকার চাষীদের প্রধান পুঁজি গোলাপ। এছাড়া গ্ল্যাডিওলাস এবং রজনীগন্ধার চাষও এখানে হয়।

এখানে অনেকগুলো ছোট ছোট বাগান ছড়িয়ে আছে কিন্তু সবচেয়ে বড় বাগান একটু ভেতরের দিকে। আমি আরামপ্রিয় দেখে কিছুক্ষণ পরেই একটা রিক্সা নিয়ে আগাতে থাকলাম কিন্তু যারা হাটতে পারেন এবং হাতে  সময়  আছে তারা রিক্সায় চড়ার চেয়ে হেটে যাওয়াই ভালো, কারণ রাস্তা কিছুটা ভাঙ্গা আর আমার ব্যাক্তিগত অভিজ্ঞতা আমাকে মৌচাক-মালিবাগের কথা স্মরণ করিয়ে দিলো। :p

 

শুধুমাত্র যারা লাইফস্টাইল ফটোগ্রাফি করতে চান তাদের জন্য বলছি এখানে কৃষিবিদ ইন্সটিটিউটের খামারবাড়ি আছে সেটা দেখে আসতে পারেন। এখানে প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত তাই অযথা কেউ গিয়ে ভিড় জমাবেন না কারণ গরু ছাড়া দেখার মত কিছুই নেই।

সন্ধ্যায় এখানে গোলাপের হাট বসে জেনেও দুপুরবেলা একবার বাজার ঘুরে এলাম। বাজারে একজন মালি ভাগ্যক্রমে পেয়ে গিয়েছি। তিনি আমাকে ৫০টা গোলাপ ৩০০ টাকায় দিলেন। বলে রাখা ভালো, বাজারে এসে ৫০টার কমে গোলাপ কেউ চেয়ে হাসির পাত্র হবেন না।

বিকেল ৪টার ট্রলারে উঠে আমি ঢাকা যখন ফিরছিলাম তখন তুরাগ নদীর মাঝে আস্তে আস্তে সূর্য হেলে পড়ছিল। শীতের কনকনে আমেজ, গোধূলি লগ্ন আর ব্যাগপ্যাকের উপর তাজা গোলামের সুগন্ধ সবকিছু মিলিয়ে অসম্ভব ভালোলাগা একটা দিন কাটিয়ে দিলাম।

ডিসক্লেইমারঃ দয়া করে বাগানে গিয়ে কেউ ফুল ছিড়বেন না। আর হ্যা জায়গাটা ছিমছাম, এখানকার মানুষগুলো নিরীহ, আমাদের খেয়াল রাখতে হবে এমন কিছু আমরা না করি যাতে লোকজন বিরক্ত হয়।

 

যারা সোলো ট্রাভেলার তার একটু খেলাম রাখবেন কথা বার্তা আচরণ বা আপনার আগমণে সবার দৃষ্টি যেন আপনার দিকে না যায়। যত কম আপনি ফোকাস হবেন তত আপনার জন্য ভালো।

যারা ল্যান্ডেস্কেপ বা লাইফস্টাইল ছবি তুলতে যেতে চান তাদেরকে সকাল সকাল যেতে হবে কারণ দুপুর দুইটার পর এখানকার চাষীরা কাজ করেনা। দিয়াবাড়ি থেকে ট্রলারে যেতে একঘন্টা লাগে, আর নৌকায় গেলে দুইঘন্টা হাতে রাখতে হবে।

 

হ্যাপি ট্রাভেলিং 🙂

 

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s